গত ২৮ আক্টোবর ব্রাম্মনবাড়ীয়ার নাসিরনগর উপজেলায় যে অনাকাঙ্থিত ঘটনা ঘটেছে তা নিঃসন্দেহে কাপুরুষোচিত মালাউনদের(অভিশপ্তদের) কাজ। কৃষিবিদ আখতারুজ্জামান ভাই বেশ সময় ধরে ঘটে যাওয়া ঘটনার উপর যে নাতিদীর্ঘ লেখাটি আপনি লিখেছেন ফেস বুকে তা সময়োপযোগী। আপনাকে ভাই আন্তরিক ধন্যবাদ। এব্যাপারে আমার বক্তব্য হচ্ছে ঐ জঘন্য কাজ কোন মুসলমানের হতে পারে না যদি তারা প্রকৃত মুসলিম হয়। আমাদের নবী(সঃ) বলেছেন, সংখ্যালঘুরা আমাদের আমানত। কোন মুসলিম দ্বারা যদি তারা অত্যাচারিত হয় তাহলে কাল কিয়ামতের দিন আমি সংখ্যালঘুদের পক্ষ নিয়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানাবো।  
সম্ভতঃ আবেসীনিয়া থেকে একদল খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ নবী (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করতে এসেছিল। সেদিন তাদের গীর্জার দিন ছিল। নবী পাক তাদের মসজিদে নববীর বারান্দায় তাদের গীর্জা করতে অনুমতি দেন । একদিন এক বিধর্মী মসজিদে নববীর দেয়ালে প্রশ্রাব ফিরতে বসলে একজন সাহাবী তাকে নিবৃত করতে যাচ্ছিলেন। তখন দয়ার নবী (সাঃ) সাহাবীকে নিবৃত করে বললেন তাকে করতে দাও। পরে পানি দিয়ে ধৌত করে দেয়ার জন্য সাহাবীকে নির্দেশ দিলেন। 
ইসলাম শান্তির বিধান। এখানে উগ্রতার কোন স্থান নেই। যদি কোন মানুষ মূর্তি হাতে করে নবীর সাথে মসজিদে দেখা করতে পারে বা গীর্জা করতে পারে তাহলে কোন ছবি যদি কোন দুষ্ট লোক পোষ্ট করেই থাকে তাহলে ইসলাম ধর্মের কি ক্ষতি হয়?  
আরো অনেক উদাহরণ আছে। এই যদি হয় ইসলামের শিক্ষা তাহলে কোন মুসলিম দ্বারা কি এসব কাপুরুষোচিত জঘন্য কাজ সংঘটিত হওয়া সম্ভব্? আসলে তারা অতি উৎসাহী। ধর্মের কোন কিছুই মানেনা শুধু আমানতের খেয়ানত(নবীর কথা অনুসারে) করে। আমার মতে তারা মালাউন(অভিশপ্ত)। যারা মানুষের অকল্যাণ করে তারাই মালাউন (অভিশপ্ত)। কই এই অতি উৎসাহী মুসলমানরাতো তাদের ঘর জালিয়ে দেয়না যারা আযানের ধ্বনি শোনার পরও মসজিদ মুখী হয়না?  
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমার দাবী হলো কারা এই জঘন্য অপরাধমূলক কাজ করছে তা উদ্ধার করার জন্য নিরপেক্ষ ভাবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে তা যদি প্রকাশ্যে তাহলে আরো ভাল হয়।
Reviewed by রফিকুল আলম on 5:01 PM Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.