আপন না হও যদি
=====রফিকুল আলম
সেদিন পড়ন্ত বেলায়
মুক্ত ঝরা হাসিমাখা
মুখে
যখন আমার কাছে এলে
তোমাকে লাগছিল অপরুপা
দ্বিরেফের পরশে
যেমন
ফুল সুন্দর হয়ে
উঠে।
রুপের নেশায় মনে
জেগেছিল
পাওয়ার অদমনীয় আগুন।
ইচ্ছে হচ্ছিল নিষ্পেষিত
করি
আমার সোহাগ পরশে
তোমার ঐ অতৃপ্ত
দেহলতা।
বুকের ব্যথা বিনিময়ের
বাসনাও ছিল মনে
অথচ নিজেও বলতে
পারিনি
কত ভালবাসা এ বুকে।
জীবন যুদ্ধে পরাজিত
বিপরীতধর্মী দুটি
মানবাত্মার নির্মম নীরবতায়
গুমোট হয়ে উঠলো
নির্জন মনোরম পরিবেশ,
দেখা দিলো তোমার
চন্দ্র মুখে শাওনের ভারী মেঘ।
নির্দয় ঘড়ির ঘন্টা
সংকেত দিলো
সন্ধ্যা সমাগত,
নীড়ে ফেরার পালা
লাজনম্র মিনতি
‘এবার যেতে দাও’
তুমি চলে গেলে রেখে
গেলে শুধু
বিদায় বেলার করুণ
চাহনি।
দেখে মনে হলো আশ্রয়হীন
লতার মতন
কত অসহায় অপূ্র্ণ
এক মানবাত্মা
শুধু একাকী চলে
গেল এক বুক ব্যথা নিয়ে
হৃদয়ে এঁকে দিয়ে
এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
ফাইল যুদ্ধ শেষ
করে
আমিও ফিরে এলাম
বিছানায়,
পালঙ্কের ফাঁকে
ফাঁকে বাস করা
নির্দয় সৈনিকের
উৎপাত নেই
অথচ উপাধানের কোমলতায়
ঘুম আসেনা আমার
এ দুচোখে।
পূবালী বাতাস বলে
গেল
ন’মাইল পূবেও এ
ঝড় উঠেছে নিঃশব্দে
চোখের লোনা জলে
ভিজিয়ে উপাধান
শান্ত হয়নি, টানতে
পারেনি কোন সমাধান।
রাতের শেষ প্রহরে
ঘুমের ঘোরে
সপনে দেখি কোমল
পরশ দিয়ে
সরস কণ্ঠে গান ধরেছ
তুমি
”আকাশে যখন মেঘ জমেছে
বৃষ্টি না হয় যদি ঝড়তো হবে,
ভাল তোমায় বেসেছি যখন
আপন না হও যদি পরতো হবে”।
চঞ্চুতে চঞ্চু রেখে
আরো বলিলে
আমারো সাধ জাগে
তোমার মত প্রিয়ে।
ঘুম ভেঙে দেখি তুমি
নেই
মিথ্যে সপন, বিষন্ন
মনের স্নিগ্ধ সকাল।

No comments: