ভুলা কি যায়
ওরতো কোন দোষ ছিলনা
নিজেকে আগলে রাখতো সারাক্ষণ
যেন বাঁধা না পড়ে কোন
ভালবাসা নামক বঞ্চনার ওড়নার খুঁটে।
আমার গোয়েন্দা চাহনীতে
বুঝতে হয়নি কোন অসুবিধে যে
ও একজন সুযোগ্য জীবন সঙ্গী।
বেহায়ার মত আমিই নিবেদন করেছিলাম
ভালবাসার অর্ঘ্য স্বরুপ
একগোছা রজনীগন্ধা আর গোলাপ।
বারবার ফিরায়ে দিয়েছে আমাকে
তার দারিদ্রতার অজুহাতে
কারণ আমি ধনীর দুলালী।
কথা দিয়েছিলাম সুনিপুণ দক্ষতায়
সোমালোকের সুষমায় ভরিয়ে দেব
সাজিয়ে দেব ভবিষ্যতের কাঙ্খিত সংসার
ঋতু ভেদে সৃষ্ট প্রসূন সৌরভে।
কথা দিয়েছিলাম হাজারো কষ্টেও
মনের বেপরোয়া সাহস হারাবো না
দারিদ্রতার বেদনা পরাজিত করে
বন্দী করবো আমার ভালবাসার পিঞ্জরে।
ওরতো কোন দোষ ছিলনা
আমিই কথা দিয়েছিলাম
আভিজাত্যের দম্ভের স্তম্ভ ভেঙে দেব
দর্প চূর্ণ করে দেবো ঘুনে ধরা সংস্কারের।

আপোষে শুরু হলো পথ চলা
যৌবনের প্রারম্ভে কলেজ জীবনে।
চিড়িয়াখানা, শিশু পার্ক, হরিৎ কুঞ্জ গুলি
শহরতলীর গ্রামের সবুজ ঘেরা প্রান্তরে
পাহাড় ঘেরা ঘন অরণ্যে
আবার কখনো
উর্মি মূখর তমসার ধারে।

কথা দিল অবশেষে জীবনে সঙ্গী হবার।
আমিই কথা রাখতে পারিনি
অভিভাবকের একগুঁয়েমির জন্য
মনের বিরুদ্ধে দুস্তর ব্যবধানে
পুতুলের মত করেছে বিদায় অজানায়।
ওকে হারিয়ে
মেঘের আঁধারে ঢেকে রাখে মন
সোমালোক আসেনা আমার ঘরে
দিন রাত আসে যায়, আপন ধারায়
নিঝুম নিশীথেও এক হয়না দু’চোখের পাতা
ভাবনারা এসে বাসর রচনা করে স্মৃতির সাগরে।
এমনি করেই পার হয়ে গেল বিশটি বছর
অনিচ্ছায় অবগাহন করে
হয়েছি তিনটি সন্তানের জননী
এমনি করে আত্মপ্রবঞ্চনায়
কাটালাম বিশটি বছর
না পেয়েছি ভালবাসা, না পেরেছি দিতে
এতো পণ্য নয় যে করবো ফেরী।
ভোলা কি যায় প্রথম জীবনের ভালবাসা?
ভার্যা হীন জীবনে ও এখন
দাঁড়িয়ে আটচল্লিশের সোপানে
আমাকে কষ্ট না দিয়ে কোন দিন
হারিয়ে দিল জীবনের সব আয়েজেনে।

Reviewed by রফিকুল আলম on 9:53 AM Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.